Home / ইসলাম / যে ৬ ব্যক্তির দোয়া সব সময় কবুল হয়

যে ৬ ব্যক্তির দোয়া সব সময় কবুল হয়

আল্লাহ তাআলা পবিত্রতা অর্জনকারীদের ভালোবাসেন। এ জন্য অনেক ইসলামিক স্কলার সব সময় পবিত্রতা অর্জনকারী ব্যক্তিদের মুসতাজেবুদ দাওয়াহ মনে করেন। কোনো ব্যক্তি যখন সমস্যাগ্রস্ত হয়ে ওজুর মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জন করে আল্লাহর কাছে একান্ত মনে প্রার্থনা করেন, তবে আল্লাহ তাআলা ওই ব্যক্তির দোয়া কবুল করে নেন। তবে এ ছাড়াও এমন ৬ ব্যক্তি রয়েছেন, যাদের দোয়া আল্লাহ সব সময় কবুল করেন। তারা হলেন-

– অসুস্থ ব্যক্তির দোয়া
অসুস্থ ব্যক্তির দোয়া কবুল হয়ে থাকে। অসুস্থতা মানুষের গোনাহকে কমিয়ে দেয়। মর্যাদা বাড়িয়ে দেয়। হাদিসে এসেছে- কোনো অসুস্থ ব্যক্তির কাছে গেলে তার কাছে নিজের জন্য দোয়া চাওয়া। কেননা অসুস্থ ব্যক্তির দোয়া বা মিনতি ফেরেশতাদের দোয়া মিনতি করার মতা।’ (ইবনে মাজাহ)

– রোজাদার ব্যক্তির দোয়া
রোজাদারের দোয়া আল্লাহ কবুল করেন। ইসলামিক স্কলাররা বলেছেন, রোজা মুখে দোয়া মানুষের জন্য সোনালী সময়। হাদিসে এসেছে-
হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, রোজাদার ব্যক্তি যখন ইফতারের সময় তার রোজা ভাঙে বা ইফতার করে। সে সময় রোজাদারের দোয়া ফেরত দেয়া হয় না।’ (ইবনে মাজাহ)

– হজরত আব্দুল্লাহ বিন আম‌র ইবনুল আস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ইফতারের সময় রোজাদারের অবশ্যই একটি দোয়া আছে, যা ফিরিয়ে দেয়া হয় না (কবুল হয়)। ইবনে আবু মুলাইকা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি আব্দুল্লাহ বিন আমর রাদিয়াল্লাহু আনহুকে ইফতারের সময় বলতে শুনেছি-
اللّٰهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ بِرَحْمَتِكَ الَّتِي وَسِعَتْ كُلَّ شَيْءٍ أَنْ تَغْفِرَ لِي
উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা বিরাহমাতিকা ওয়াসিআত কুল্লা শাইয়িন আন তাগফিরলি।’
অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমি আপনার দয়া ও অনুগ্রহ প্রার্থনা করছি যা সব কিছুর উপর পরিব্যাপ্ত, যেন আপনি আমাকে ক্ষমা করেন।’ (ইবনে মাজাহ)

– সন্তানের জন্য বাবার দোয়া
সাধারণত মায়েরাই বাচ্চার জন্য বেশি দোয়া করে থাকেন। মায়ের তুলনায় বাবারা দোয়া কম করে থাকেন। কিন্তু কোনো বাবা যদি সন্তানের জন্য বদ-দোয়া করেন আল্লাহ তাআলা তা ফেরত দেন না। হাদিসে এসেছে- হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তিন ব্যক্তির দোয়া অবশ্যই কবুল করা হয়, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। আর তারা হলেন- – নির্যাতিত ব্যক্তির দোয়া, – মুসাফিরের দোয়া আর – সন্তানের প্রতি বাবার বদ-দোয়া। (তিরমিজি)

– কারও অনুপস্থিতিতে অন্য ব্যক্তির দোয়া
কোনা ব্যক্তি যদি অন্য কোনো ব্যক্তির জন্য তার অনুপস্থিতিতে দোয়া করেন, তবে আল্লাহ তাআলা সে দোয়া কখনও ফেরত দেন না। হাদিসে এসেছে-
হজরত উম্মে দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেন, আমার স্বামী রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘কোনো ব্যক্তি যদি তার কোনো ভাইয়ের জন্য তার পেছনে (তার অনুপস্থিতিতে) আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে, তবে ফেরেশতা সে দোয়া (কবুলে) ‘আমিন’ বলেন। (আর কান্নাকাটি করে দোয়া করলে) নিজের জন্যও এ দোয়া কবুল হয়।’ (মুসলিম)

– মাজলুম ব্যক্তির দোয়া
যে ব্যক্তি কোনো ব্যক্তি-গোষ্ঠীর দ্বারা জুলুমের স্বীকার হয়, অত্যাচারিত হয় ওই ব্যক্তির দোয়া আল্লাহ তাআলা কবুল করেন। হাদিসে এসেছে-
হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তিন ব্যক্তির দোয়া অবশ্যই কবুল করা হয়, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। আর তারা হলেন- নির্যাতিত (মজলুম) ব্যক্তির দোয়া, মুসাফিরের দোয়া আর সন্তানের প্রতি বাবার বদ-দোয়া। (তিরমিজি)হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘যে লোক তার প্রতি অত্যাচারকারীর বিরুদ্ধে দোয়া করল সে প্রতিশোধ গ্রহণ করল।’ (তিরমিজি)

– মুসাফিরের (সফরকারী) দোয়া
যে ব্যক্তি সফরে থাকে আল্লাহ তাআলা ওই ব্যক্তির দোয়া কবুল করেন। হাদিসে এসেছে-
যে ব্যক্তি কোনো ব্যক্তি-গোষ্ঠীর দ্বারা জুলুমের স্বীকার হয়, অত্যাচারিত হয় ওই ব্যক্তির দোয়া আল্লাহ তাআলা কবুল করেন। হাদিসে এসেছে-
হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তিন ব্যক্তির দোয়া অবশ্যই কবুল করা হয়, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। আর তারা হলেন- নির্যাতিত (মজলুম) ব্যক্তির দোয়া, মুসাফিরের দোয়া আর সন্তানের প্রতি বাবার বদ-দোয়া। (তিরমিজি)

বিশেষ সতর্কতা
কোনো সন্তানেরই উচিত নয়, বাবা-মার সঙ্গে খারাপ আচরণ করা। কেননা বাবা-মা সন্তানের জন্য জান্নাত ও জাহান্নাম। সন্তান যদি বাবা-মার বাধ্য হয় তবে জান্নাত সুনিশ্চিত। আর যদি অবাধ্য হয় তবে জাহান্নাম সুনিশ্চিত।

আবার কোনো ব্যক্তির সঙ্গে জুলুম করা হলে ওই ব্যক্তির সঙ্গে আল্লাহর সঙ্গে পর্দা থাকে না। সে যে দোয়া করে আল্লাহ তাআলা তা কবুল করে নেন। সুতরাং কারো প্রতি জুলুম করা মারাত্মক অপরাধ।আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে হাদিসের নির্দেশনাগুলো মেনে চলার তাওফিক দান করুন। হাদিসগুলোর ওপর যথাযথ আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

About admin

Check Also

সীমিত পরিসরে হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু

সৌদি আরবে পবিত্র হজের আ’নুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর থেকেই কা’র্যক্রম শুরু করেন হাজিরা। …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *