যে কারণে কাফনের রঙ সাদা হয়

যে কারণে কাফনের রঙ সাদা হয়

মৃ’ত্যুর হিম’শীতল স্পর্শ থেকে কারোর কোনো নিস্তার নেই। কোনো না কোনো সময়ে মৃত্যুর কাছে আমাদের আত্মসমর্পণ করতেই হবে। মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমরা যেখানেই থাক না কেন, মৃ’ত্যু কিন্তু তোমাদেরকে পা’কড়াও করবেই। যদি তোমরা সু’দৃঢ় দূ’র্গের ভেতরেও অবস্থান কর, তবুও।’ (সূরা: আন নিসা, আয়াত: ৭৮)।

ইসলামি শরীয়ত অনু’যায়ী, মৃত ব্যক্তিকে সম্মানজন’কভাবে কাফন-দাফন করতে হয়। কাফনের পোশাক সাদা হওয়া উত্তম। তার মানে এই নয় যে অন্য রঙের কাপড় দিয়ে কাফন পরানো যাবে না। তবে হ্যাঁ, সাদা রঙের কাপড়ে কাফন পরানো উত্তম। কেননা রাসূল (সা.) এর প্রি’য় রঙ ছিল সাদা। তিনি সাদা র’ঙের পোশাক ব্যবহার করা পছন্দ করতেন।

ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সা.) বলেছেন, তোমরা সাদা রঙের কাপড় পরিধান করবে। তো’মাদের জীবিতরা যেন সাদা কাপড় পরিধান করে এবং মৃতদেরও যেন সাদা কাপড় দিয়ে কা’ফন দেয়া হয়। কেননা সাদা কাপড় তোমাদের সর্বোত্তম পোশাক। (শামায়েলে তির’মিজি, হাদিস ৫২)।

অন্য হাদিসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমরা সাদা রঙের পোশাক পরো। কেননা তোমাদের জন্য তা সব’চেয়ে উত্তম পোশাক। আর তোমাদের মৃত ব্যক্তিদের এটা দিয়েই কাফন দাও। (তিরমিজি, হাদিস ৯৯৪)।

কিন্তু কেন এই রঙ ব্যবহার করা উত্তম? আস’লে এর মূ’ল কারণ এটাই যে এটি মহানবী হজরত মুহাম্মাদ (সা.) এর আদর্শ। তা ছাড়া সাদা বিশুদ্ধ ও পূর্ণতার রঙ। সাদা রঙের অর্থ বিশুদ্ধতা, নির্দোষ, পূর্ণতা ও সম্পূ’র্ণতা। সা’দা রঙ মনকে স্পষ্ট ও বিশুদ্ধ করে তোলে বলে বিশ্বাস করা হয়। এ ছাড়া সাদা পরিতৃপ্তি, বিশুদ্ধতা, জন্ম, সরলতা, পরিচ্ছন্নতা, শান্তি, নম্রতা, নির্ভু’লতা, শীতকালীন, বরফ, ভালো, ঠাণ্ডা প্র’ভৃতি ভাব প্রকাশে সাহায্য করে। তাই ইস’লামে সাদা পোশাকের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

এমনকি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কেও সাদা কাপড়ে কাফন পরানো হয়ে’ছে। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল (সা.)-কে তিনটি ইয়েমেনি সাহুলি সাদা সুতি বস্ত্র দিয়ে কাফন দেয়া হয়েছিল। তার মধ্যে কামিস ও পাগড়ি ছিল না। (বুখারি, হাদিস ১২৬৪)।

এজন্য প্রায় প্রতিটি মুস’লিম দেশে মৃত মানুষকে কাফন পরানোর ক্ষেত্রে সাদা পোশাক পরা’নোর সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। তবে এ বিষয়টিও স্মরণ রাখতে হবে যে অন্য রঙের কাপড় দিয়ে কাফন পরা’নো নিষিদ্ধ নয়। বরং ইসলাম চায় এমন কাপড় দিয়ে মৃ’ত ব্যক্তিকে কাফন পরানো হোক, যা মৃত ব্যক্তির সম্মান প্রকাশে সহায়ক।

জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, একদিন নবী করিম (সা.) খুতবা দিতে গিয়ে তার সাহাবিদের মধ্যে জনৈক ব্যক্তি’র কথা উল্লেখ করেন। তিনি মারা গেলে তাকে অপ’র্যাপ্ত কাপড়ে কাফন দেয়া হয় এবং তাকে রাত্রিবেলা ক’বর দেয়া হয়। নবী করিম (সা.) আমাদের এই বলে তি’রস্কার করেন যে কেন তাকে রাত্রিবেলা দাফন করা হলো। অথচ তিনি তার জা’নাজা পড়তে পারলেন না। বরং কোনো মানুষ নি’রুপায় না হলে এরূপ করা ঠিক নয়।

এ বিষয়ে নবী করিম (সা.) বলেন, যখন তোমাদে’র কেউ তার মুসলিম ভাইকে কাফন দেবে, সে যেন ভালো কাপড় দিয়ে কাফনের ব্যবস্থা করে। (মুসলিম, হাদিস ২০৭৪)। এসব কিছু বিবেচনা করে ইসলাম ধর্মে মৃ’ত ব্য’ক্তিকে সাদা ও ভালো কাপড়ে কাফন পরিয়ে দাফন করা হয়। এটি মানবীয় মর্যা’দা রক্ষার ক্ষেত্রে ইসলামের একটি পদক্ষেপ।

Share Now

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2020 NytBD
Design BY SK Kuddus